,
Menu |||

নবীগঞ্জে ২সন্তানসহ গৃহবধূর মৃত্যু : দু মাস পর কবর থেকে লাশ উত্তোলন

নবীগঞ্জ ২৯ মে ২০১৫ :: 
Slide1  মতিউর রহমান মুন্না, নবীগঞ্জ প্রতিনিধি :: নবীগঞ্জ উপজেলার বড় ভাকৈর (পুর্ব) ইউনিয়নের বড় ভাকৈর গ্রামের কৃষক ফরিদ মিয়ার স্ত্রী রুমেনা বেগম (৩৫), ছেলে মুসা মিয়া (৭) ও মেয়ে মুসলিমা খাতুন (৫) এর মৃত্যুর ঘটনার ২ মাস ৫ দিন পর পূণঃরায় ময়না তদন্তের জন্য কবর থেকে লাশ উত্তোলন করা হয়েছে।
উক্ত ঘটনার মামলা বাদীর আবেদনের প্রেক্ষিতে গত ২৬ মে বিজ্ঞ আদালতের নিদের্শে গত বুধবার দুপুরে মামলার তদন্ত কর্মকর্তা হবিগঞ্জ গোয়েন্দা শাখার (ডি.বি) এস আই মোহাম্মদ ইকবাল বাহার কে সাথে নিয়ে হবিগঞ্জের নিবার্হী ম্যাজিস্ট্রেট শাহরিয়ার নিহত রুমেনা বেগমের পিত্রালয় উপজেলার গজনাইপুর ইউনিয়নের মামদপুর গ্রামের পারিবারিক কবরস্থান থেকে রুমেনা বেগমের মৃত দেহ উত্তোলন করা হয়। লাশ উত্তোলনের সময় স্থানীয় ইউপি চেয়ারম্যান আবুল খায়ের গোলাপসহ এলাকার শত শত মানুষের উপচে পড়া ভীড় লক্ষ্য করা গেছে।
উল্লেখ্য, গত ২২ মার্চ সকালে বড় ভাকৈর গ্রামের কৃষক ফরিদ উদ্দিনের স্ত্রী রুমেনা বেগমকে গাছের সাথে ঝুলন্ত ও তাদের ছেলে মুসা মিয়া (৭) ও মেয়ে মুসলিমা খাতুন (৫) এর লাশ বাড়ির পাশের পুকুর থেকে উদ্ধার করেছে নবীগঞ্জ থানা পুলিশ। এনিয়ে এলাকায় ধু¤্রজালের সৃষ্টি হয়। চাঞ্চল্যকর মা, ছেলে ও মেয়ের মৃতদেহ উদ্ধারের ঘটনাটি হত্যা না আত্মহত্যা এ নিয়ে জনতার মনে নানা প্রশ্ন দানা বাঁধে। স্বামীর পরিবার রুমেনা বেগম তার দু’ সন্তানকে পুকুরে ফেলে হত্যা করে নিজে আত্মহত্যা করেছে দাবী করে। তবে রুমেনার পিত্রালয়ের লোকজন তাদের এ দাবী মানতে পারেনি। তারা দাবী করেছেন পারিবারিক কলহের কারনে রুমেনাসহ অবুঝ দু’ সন্তানকে স্বামী ও তার বাড়ির লোকজন পরিকল্পিতভাবে হত্যা করেছে। এ ঘটনায় নিহতের স্বামী ফরিদ মিয়া (৪০)কে তৎকালীন সময়ে আটক করে পুলিশ।
এলাকাবাসী সূত্রে জানাযায়, গত ২১ মার্চ রাতে খাওয়া দাওয়া করে ফরিদ মিয়া ও তার স্ত্রী সন্তানরা অন্যান দিনের মতো ঘুমিয়ে পরেন। রাত অনুমান ২টার দিকে ফরিদ মিয়া দেখেন তার স্ত্রী ও সন্তানরা তার পাশে নেই। দুই সন্তান ও স্ত্রীকে পাশে না পেয়ে বিভিন্ন স্থানে খোঁজাখুঁজি শুরু করেন ফরিদ মিয়া। এক পর্যায়ে তিনি বাড়ির পাশে পুকুর পারে একটি জারুল গাছে গলায় ওড়না পেঁচানো অবস্থায় তার স্ত্রীর ঝুলন্ত মৃতদেহ দেখতে পান। তারপর পাশেই বাড়ির পুকুরে দুই সন্তানের মৃতদেহ পানিতে ভাসতে দেখেন তিনি। এসময় তার সুর চিৎকারে আশপাশের লোকজন ছুটে আসেন। খবর পেয়ে নবীগঞ্জ থানার একদল পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে মৃতদেহ তিনটি উদ্ধার করে ময়না তদন্তের জন্য হবিগঞ্জ মর্গে প্রেরন করেন। দুই সন্তানসহ মা‘য়ের মৃত্যু নিয়ে এলাকায় শোকের ছায়া নেমে আসে। লোকজনের মধ্যে শুরু নানা আলোচনা-সমালোচনা।
এদিকে রুমেনার স্বামী ফরিদের দাবি, রুমেনা মানসিক রোগে আক্রান্ত ছিলেন। রাতে তিনি ঘুমিয়ে পড়ার পর সন্তানদের পুকুরে ফেলে নিজেও আত্মহত্যা করেন বলে দাবী করেন ফরিদ মিয়া।
অপর দিকে রুমেনার বাবা উপজেলার গজনাইপুর ইউনিয়নের মামদপুর গ্রামের মাসুক মিয়া দাবী করেছিলেন দীর্ঘ দিন ধরে তাদের দাম্পত্য কহল চলে আসছিল। প্রায় ২মাস আগে দাম্পত্য কহলের জের ধরে রুমেনা ও তার দুই সন্তান নিয়ে বাবার বাড়ি আটক ছিল। এক পর্যায়ে শালিসে মিমাংসার মাধ্যমে স্বামীর বাড়ি ফিরে আসে। রুমেনার বাবা ও তাদের আত্মীয় স্বজনদের দাবী রুমেনার স্বামী ফরিদ মিয়া ও তার স্বজনরা তাদেরকে হত্যা করে আত্মহত্যার নাটক তৈরী করেছে।
Slide1 নিহতের ভাই শাহীন মিয়া জানান, ভোর ৫ টার দিকে মৃত রুমেনার দেবর ফোনে তাদের জানায়, ফরিদ মিয়া তার স্ত্রী রুমেনা ও দু’ সন্তানকে হত্যা করেছে। খবর পেয়ে স্থানীয় লোকদের নিয়ে ঘটনাস্থল বোনের বাড়ি ভাকৈর গ্রামে ছুটে আসেন। এ সময় বোনের মৃতদেহ ঝুলন্ত অবস্থায় এবং দু’ অবুঝ সন্তানের মৃতদেহ ঘরে ভিতরে পড়ে থাকতে দেখি। পানিতে ভিজানোর কোন আলামত পাওয়া যায়নি বলেও দাবী শাহীনের। শাহীন বলেন, তার বোন ও সন্তানদের স্বামী ফরিদ উদ্দিন ও তার পরিবারের লোকজন হত্যা করেছে। তারা এ ঘটনার সুষ্ট তদন্তসহ ঘাতকদের ফাসিঁ দাবী করে আসছিলেন। এ ঘটনায় রুমেনা বেগমের চাচা বাদী হয়ে নবীগঞ্জ থানায় একটি হত্যা মামলা দায়ের করার পর কাজের লোক আবুল হোসেন ব্যাতিত অন্য কাউকে গ্রেফতার করতে পারেনি পুলিশ। নিহতের পরিবার আসামী গ্রেফতারে অবহেলার অভিযোগ তুলেন তদন্ত কর্মকর্তার বিরুদ্ধে। ইতিমধ্যে নিহতের ময়না তদন্ত রির্পোটে আত্মহত্যার আলামত আসলে বাদী বিজ্ঞ আদালতে ওই রির্পোটের উপর অনাস্থার আবেদন করে পুণঃরায় ময়না তদন্তের দাবী জানান। বর্তমানে মামলাটি হবিগঞ্জের গোয়েন্দা শাখা (ডি.বি) পুলিশ তদন্ত করছেন। এদিকে আবেদনের প্রেক্ষিতে বিজ্ঞ আদালত রুমেনার মৃতদেহ উত্তোলন করে পূণঃরায় ময়না তদন্তের জন্য গত ২৬/০৪/২০১৫ তারিখে আদেশ দেন। আদেশ প্রাপ্তির প্রেক্ষিতে গতকাল বুধবার দুপুরে নিহতের পিতার বাড়ি মামদপুর কবরস্থান থেকে লাশ উদ্ধার করা হয়েছে।

Share
প্রধান সম্পাদক ও প্রতিষ্ঠাতা ॥ শাহাব উদ্দিন আহমেদ বেলাল
প্রধান সম্পাদক কর্তৃক লন্ডন থেকে প্রকাশিত।
ফোন ॥ (+৪৪)৭৯৪৪৩০৫৪৮৮
ই-মেইল ॥ probashebangladesh@hotmail.com
Copyright © BY Probashe Bangladesh
Design & Developed BY Popular-IT.Com