,
Menu |||

মেয়র আনিসুল হকের ইন্তেকাল : শুক্রবার রিজেন্ট পার্ক মসজিদে জানাযা

বৃহষ্পতিবার, ৩০ নভেম্বর, ২০১৭:

প্রবা লন্ডন অফিস :  ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের (ডিএনসিসি) মেয়র আনিসুল হক আর নেই (ইন্না লিল্লাহি ওয়া ইন্না ইলাইহি রাজিউন)। লন্ডন সময় বৃহস্পতিবার বিকেল ৪টা ২৩ মিনিটে (বাংলাদেশ সময় রাত ১০.২৩) চিকিৎসকেরা তাঁর কৃত্রিম শ্বাস-প্রশ্বাসযন্ত্র (ভেনটিলেশন যন্ত্র) খুলে নেন। এরপর তাঁকে মৃত ঘোষণা করা হয়। মৃত্যুকালে তাঁর বয়স হয়েছিল ৬৫ বছর।

লন্ডনে মেয়রের পারিবারিক সূত্রে এসব তথ্য জানা গেছে আগামী শনিবার বেলা ১১টা ৪০ মিনিটে আনিসুল হকের মরদেহ ঢাকায় নেওয়া হবে। বিমানবন্দর থেকে মরদেহ তাঁর বাসায় নেওয়া হবে। ওই দিন বাদ আসর তাঁকে রাজধানীর বনানী কবরস্থানে মরহুমের দাফন করা হবে। মরহুম সেন্ট্রাল লন্ডনের ওয়েলিংটন  হাসপাতালে নিবিড় পরিচর্যা কেন্দ্রে (আইসিইউ) তিনি চিকিৎসাধীন ছিলেন। নাতির জন্ম উপলক্ষে গত ২৯ জুলাই সপরিবারে লন্ডনে আসেন আনিসুল হক ও তার স্ত্রী রুবানা হক। সেখানে অসুস্থ হয়ে পড়েন আনিসুল হক। তার মস্তিস্কের রক্তনালীতে প্রদাহজনিত সেরিব্রাল ভাসকুলাইটিস শনাক্ত করেন চিকিৎসকরা। অসুস্থ হয়ে পড়লে গত ১৩ আগস্ট তাঁকে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। পরীক্ষা-নিরীক্ষার পর তাঁর শরীরে মস্তিষ্কের প্রদাহজনিত রোগ ‘সেরিব্রাল ভাস্কুলাইটিস’ শনাক্ত করেন চিকিৎসকেরা। এরপর তাঁকে দীর্ঘদিন আইসিইউতে রেখে চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছিল। একপর্যায়ে মেয়রের শারীরিক পরিস্থিতির কিছুটা উন্নতি হওয়ায় তাঁর কৃত্রিম শ্বাসযন্ত্র খুলে নেওয়া হয়।গত মঙ্গলবার মেয়রের পরিবারের একজন সদস্য বলেন, রক্তে সংক্রমণ ধরা পড়ায় তাঁকে আবার আইসিইউতে নেওয়া হয়েছে।
এদিকে আনিসুল হকের মৃত্যূর খবরে তার স্বজন,বন্ধু-বান্ধব ও গুনগ্রাহীদের মাঝে শোকের ছায়া নেমে আসে। ব্রিটেনে স্বামীর পাশে থাকা রুবানা বৃহস্পতিবার বিকালে সংবাদ মাধ্যমকে বলেন, আনিসুল হকের ফুসফুসে সংক্রমণ হয়েছে। তার অবস্থা ভালো নয়। তার জন্য দোয়া করুন। পরে বিকালে তার মৃত্যুর খবর জানা যায়।
আগস্ট থেকে হাসপাতালে চিকিৎসাধীন আনিসুল হকের শারীরিক অবস্থার উন্নতি হলে গত ৩১ অক্টোবর আইসিইউ থেকে ফিজিওথেরাপি দেওয়ার জন্য রিহ্যাবিলিটেশনে স্থানান্তর করা হয়। ওই সময় চিকিৎসকরা বলেছিলেন, মেয়র শঙ্কামুক্ত রয়েছেন। পরে গত মঙ্গলবার তাকে ফের হাসপাতালের নিবিড় পরিচর্যা কেন্দ্রে  (আইসিইউ) স্থানান্তর করা হয়। এদিন তার মৃত্যুর গুজব ছড়িয়ে পড়ে।
ব্যবসায়ীদের নেতা আনিসুল হক ২০১৫ সালের নির্বাচনে আওয়ামী লীগের মনোনয়নে ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের মেয়র নির্বাচিত হন তিনি। মেয়র হিসাবে নগরীর সৌন্দর্য বর্ধন এবং গন পরিবহন ব্যবস্থায় শৃংখলা আনার ক্ষেত্রে ব্যাপক উদ্যেগ নেন তিনি। বিশেষ করে অভিযাত এলাকা গুলশান-বনানীতে তিনি ঢাকা চাকা নামে শীতাতপ নিয়ন্ত্রিত গনপরিবহন চালু ও বেপরোয়া রিকশা নিয়ন্ত্রনে ভূমিকা রাখেন তিনি।
আনিসুল হকের জন্ম নোয়াখালি জেলায় ১৯৫২ সালে। তার শৈশবের বেশ কিছু সময় কাটে তার নানাবাড়ি ফেনী জেলার সোনাগাজীর আমিরাবাদ ইউনিয়নের সোনাপুর গ্রামে। তিনি চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় থেকে অর্থনীতিতে স্নাতক সম্পন্ন করেন। ১৯৮০ থেকে ১৯৯০-এর দশকে টেলিভিশন উপস্থাপক হিসেবে তিনি জনপ্রিয়তা লাভ করেন। তারপর ২০০৫ থেকে ২০০৬ সালে বিজিএমইএর সভাপতির দায়িত্ব পালন করেন এবং ২০০৮ সালে ব্যবসায়ীদের শীর্ষ সংগঠন এফবিসিসিআইর সভাপতি নির্বাচিত হন তিনি। মোহাম্মদি গ্রুপ ও দেশ এনার্জি লি: এর কর্নধার তিনি।
পারিবারিক সূত্র জানায়, অন্তিমকালে তার পাশে উপস্থিত ছিলেন তাঁর স্ত্রী, পুত্র ও কন্যাদ্বয় । তাঁর মরদেহ শনিবার সকাল ১১:৪০ মিনিটে বাংলাদেশ বিমানযোগে ঢাকায় নেওয়া হবে। বিমানবন্দর থেকে মরদেহ তাঁর বাসায় নেওয়া হবে। ওই দিন বাদ আসর নামাজে জানাজা শেষে তাঁকে রাজধানীর বনানী কবরস্থানে দাফন করা হবে। পরিবারের পক্ষ থেকে কৃতজ্ঞতাঢাকাসহ সারা দেশে ও বিদেশ তার সকল শুভান্যুধায়ীর কাছে তাঁর জন্য দোয়া তাঁর চেয়েছে তার পরিবার

Share
প্রধান সম্পাদক ও প্রতিষ্ঠাতা ॥ শাহাব উদ্দিন আহমেদ বেলাল
প্রধান সম্পাদক কর্তৃক লন্ডন থেকে প্রকাশিত।
ফোন ॥ (+৪৪)৭৯৪৪৩০৫৪৮৮
ই-মেইল ॥ probashebangladesh@hotmail.com
Copyright © BY Probashe Bangladesh
Design & Developed BY Popular-IT.Com