,
Menu |||

কর্মকর্তা ‘ঘুমিয়ে’, রাতের মেঘনায় ইলিশ উৎসব!

মঙ্গলবার, ১৭ অক্টোবর, ২০১৭ :
প্রবা রিপোর্ট : ভোলার চরফ্যাশনের মেঘনায় দিনে আড়ালে আবডালে আর রাতে উৎসবমুখর পরিবেশে মা ইলিশ শিকার করা হচ্ছে। প্রশাসনের কর্মকর্তাদের নির্ধারিত হারে ঘুষ পরিশোধ করে রাতে মাছ শিকারের ‘অনুমতি’ নিয়েছেন বলে জেলেরা জানিয়েছেন। রাতের শেষভাগে স্বল্প সময়ের জন্য মেঘনা পাড়ে জমে উঠা মাছঘাটগুলোতে হানা দিয়ে পুলিশের লোকজনও  জেলেদের  শিকার করা মাছে ভাগ বসাচ্ছে।
গত রোববার দিবাগত রাত ১০টা থেকে ভোর ৫টা পর্যন্ত  মেঘনার বেতুয়া, নতুন স্লুইসঘাট, সেন্টারের ঘাট এবং ডাক্তারের ঘাট এলাকায় সরেজমিনে অনুসন্ধানে মা ইলিশ শিকার এবং বেচা-বিক্রির উৎসব দেখা গেছে। যদিও এসময় মেঘনা নদী বা সংলগ্ন ঘাটগুলোতে প্রশাসনের কোনো লোকজনের উপস্থিতি দেখা যায়নি।
জানা যায়, চরফ্যাশনে প্রশাসনের কর্মকর্তারা মেঘনার ঘাটেঘাটে দালালদের মাধ্যমে জেলেদের কাছ থেকে চাঁদা নিয়ে  নিষিদ্ধ সময়ে মাছ শিকারের ‘অনুমতি’ দিয়েছে। এজন্য রাতের মেঘনায় মা ইলিশ শিকারের উৎসব চলছে। এমন খবরের ভিত্তিতে রবিবার রাত ১০টার পর  স্থানীয় সংবাদকর্মীদের  একটি দল মেঘনার বেতুয়া, নতুন স্লুইস, সেন্টারের ঘাট এবং ডাক্তারের ঘাট এলাকায় অবস্থান নেয়। মধ্যরাতে জাল ফেলার সময় হলে জেলেরা জাল নৌকা নিয়ে মেঘনায় নেমে যায়। রাত ৩টার পর থেকে জেলেরা নৌকাভর্তি মাছ নিয়ে ঘাটে ফিরতে থাকে। কিন্তু সংবাদকর্মীদের ‘অপ্রত্যাশিত’ উপস্থিতির খবর পেয়ে জেলেরা ঘাট ছেড়ে দ্রুত অন্যত্র চলে যেতে থাকে।
তাৎক্ষণিক বিষয়টি অবহিত করার জন্য চরফ্যাশন উপজেলা নির্বাহী অফিসার মোহাম্মদ মনোয়ার হোসেন, সহকারী কমিশনার (ভূমি) মো. আমীনুল ইসলাম, কোস্টগার্ডের কন্টিনজেন্ট কমান্ডার এবং উপজেলা মত্স্যসম্পদ কর্মকর্তা পলাশ হালদারকে ফোন দেওয়া হয়। কিন্ত তারা কার্যকর কোনো ব্যবস্থা নেননি। ফলে সংবাদকর্মীরা ভোলা জেলা প্রশাসক মো. সেলিম উদ্দিনকে  বিষয়টি অবহিত করেন। জেলা প্রশাসক উপজেলা নির্বাহী অফিসারকে বিষয়টি অবহিত করতে বলেন। উপজেলা নির্বাহী অফিসার মেঘনায় অভিযানিক দল মোতায়েন আছে বলে সংবাদকর্মীদের জানান। কিন্তু এমন কোনো দল মেঘনায় নেই বলে সংবাদকর্মীদের তরফ থেকে জানানোর পর নির্বাহী অফিসার বিষয়টি দেখার আশ্বাস দেন। রাত ৪টা পর্যন্ত প্রশাসনের কোনো পর্যায়ের কর্মকর্তা বা কর্মচারীকে মেঘনায় দেখা যায়নি। রাত ৩টার কিছু পরে নুতন স্লুইসঘাটে একটি ইঞ্জিনচালিত ট্রলার মাছ নিয়ে ঘাটে আসে। কিন্তু সংবাদকর্মীদের দেখে ট্রলার মালিক বাকের, মাঝি জামালসহ ৬ জেলে ট্রলার এবং জাল-মাছ ফেলে পালিয়ে যায়। একই সময় ডাক্তারের ঘাটে মাছ নিয়ে আসে মান্নান মাঝির ট্রলার।
সংবাদকর্মীরা মাছসহ মাঝি মান্নানকে ঘিরে ধরলে শাহাবুদ্দিন ছায়েদসহ অপর ২ জেলে পালিয়ে যায়। সংবাদকর্মীদের উপস্থিতির খবর ছড়িয়ে পড়লে ঘাটে ফেরার জন্য অপেক্ষমাণ ট্রলারগুলোকে মাঝ নদীতে নোঙ্গর ফেলে অপেক্ষা করতে দেখা গেছে। দু’ ঘাটে আটক দু’টি ট্রলার এবং জাল-মাছসহ নদীতে ভাসমান ট্রলারগুলো জব্দ করতে প্রশাসনের লোকজনের কোনো সহযোগিতা মেলেনি। তবে রাত ৪টার পর উপজেলা নির্বাহী অফিসারের নির্দেশে একজন সহকারী সাব ইন্সপেক্টর এবং একজন আনসার সদস্য নতুন স্লুইসঘাটে পৌঁছে জেলেদের ফেলে যাওয়া ট্রলার জাল এবং মাছ জব্দ করেন।
Share
প্রধান সম্পাদক ও প্রতিষ্ঠাতা ॥ শাহাব উদ্দিন আহমেদ বেলাল
প্রধান সম্পাদক কর্তৃক লন্ডন থেকে প্রকাশিত।
ফোন ॥ (+৪৪)৭৯৪৪৩০৫৪৮৮
ই-মেইল ॥ probashebangladesh@hotmail.com
Copyright © BY Probashe Bangladesh
Design & Developed BY Popular-IT.Com