,
Menu |||

রাতের পর রাত

মঙ্গলবার, ৪ জুলাই, ২০১৭ : 

অনেকদিন হয় আর ধারাবাহিকভাবে লেখা সম্ভব হয়ে উঠেনি কাজলের। শারীরিক অবস্থা তার একটি কারণ। এদিকে দিনের অবস্থাও ভাল নয়। এই রোদ এই বৃষ্টি। দিনটি মঙ্গলবার। সন্ধ্যা সাতটা। ব্রিটেনের এই সামারে সন্ধ্যা সাতটা মানে বিকেলের আমেজ। হঠাৎ মোবাইলে রিং অপরপ্রান্তে নয়ন। প্রথমে কুশলাদি বিনিময়ের পর, নয়ন জানতে চাইলো রাতের পর রাতের খবর কি? কাজল কি এ সপ্তাহে কিছু লিখবে? কাজলের জিজ্ঞাসা নয়নের কাছে কি এমন কিছু খোরাক আছে যা পাঠকরা পড়বে, পছন্দ করবে? নতুবা একগুয়েমি চর্বিতচর্বণ বিষয়ে লিখে কোন লাভ হবে না এমন কথাও বলে কাজল।

নয়ন জানায়, তার কাছে এবার কিছু খোরাক আছে যদি কাজল রাজনৈতিক রূপ দিয়ে কলমের মুন্সিয়ানায় তা তুলে ধরতে পারে তাহলে পাঠকরা বিষয়টিকে পছন্দ করবে।  কাজলের প্রথম প্রশ্ন রাজনৈতিক রূপ দিতে গিয়ে এ শতাব্দির সূচনার ক্রসফায়ার গল্পের মতো আরেকটি বিষয় হবে না তো।  যাক বলো, দেখি খোরাকটা কি? নয়ন বললো এই যেমন ধরো, রাজনৈতিক দল-বদলের পালা। কাজলের আর বুঝতে অসুবিধা হলো না নয়ন কি বুঝাতে চাচ্ছে? কাজল বললো রাজনৈতিক দল-বদলের পালা, এটা বাংলাদেশে শুরু হয়েছে ৭৫ সালের পটপরিবর্তনের পর থেকে। আর সে পটপরিবর্তনের খলনায়করা হলেন স্বৈরশাসকরা। ধারাবহিকভাবে একের পর এক স্বৈরশাসকের হাত বদল হয়েছে, দেশ রক্তগঙ্গায় ভাসিয়েছে, খলনায়কদের হাতের ইশারায়। আর কিছু পরিত্যক্ত রাজনীতিবিদ নামের কলঙ্ক যাদের গণতন্ত্র বা তার প্রতি কোন মমতাবোধ ছিল না, তারা দাসত্বের জিঞ্জির তাদের গলায় পরে নেয়। কাজলের মতে ওদের নাম বসন্তের কোকিল বা সুযোগসন্ধানি। তাদের  বলতে পারো মানুষ কোকিল। যার একটি উপমা দিতে গিয়ে কাজল কমলাকান্তের দুটি স্মৃতিচারণ দিয়ে নয়নকে বুঝাতে চাইলো ওরা বসন্তের কোকিল, বর্যার অঝোরধারা, শরতের স্নীগ্ধতা, হেমন্তের কূহেলি ওদেরকে কেউ বেধে রাখতে পারে নি। ওরা ’মাইগ্রেটারি বার্ড’ বসন্তের দেশে দেশে ঘুরে বেড়ায়। আর কমলাকান্তের দফতরে মানব চরিত্রের ঐ সব পরিত্যক্তদের তীর্যক শ্লেষ অভিব্যক্তি পেয়েছে। বসন্তের সম্ভোগ প্রিয়  জীবনের খাতারে ওদেরকে দাঁড় করিয়ে লেখক বলেছিলেন, ওরা  ’ফ্রেন্ড ইন নিড নয়, তাই ফ্রেন্ড ইন ডিড’ কখনো হতে পারেনা। নয়ন এবার জানতে চাইলো এখনতো অনেক দেখি সরকারি দলের দালালিতে একদম ওস্তাদের ভূমিকায় কাজ করছে। কাজল তার উত্তরে একটা নাটকের চরিত্র রচনা করলো যা ওদের চরিত্রের সাথে হুবহু মিলে যাবে। উদাহরণ হিসাবে তাদের একটা দৃষ্টান্ত নীচে তুলে ধরলো- স্বাধীনতা পূর্ব পাকিস্তানে একটি ছাত্র সংগঠনের নাম ছিল এনএসএফ স্বাধীনতা উত্তর তারা হয়ে যায় মুক্তিযোদ্ধা। এ ধরনের একটি ঘটনার প্রত্য  সাক্ষী কাজল। তাদের একজনের সাথে লন্ডনে দেখা। বাংলাটাউনখ্যাত লন্ডনের ব্রিকলেনের একটি রেস্টুরেন্টে বসে দুপুরের খাবার খাচ্ছে আর তার সাথের অন্যান্যদের বুঝাতে চাচ্ছে বাংলাদেশে মুক্তিযুদ্ধে তার বীরত্বে কাহিনী। দুপুরের খাবার খেতে কাজলও সে রেস্টুরেন্টে ঢুকেছে, কাজলকে দেখামাত্র তার মুখমন্ডল কালো হয়ে এলো, বন্ধুবান্ধবরা বললো বলো হঠাৎ করে বন্ধ হয়ে গেলে কেনো। ওর মুখে কোনো কথা নেই, কাজল বললো, শুনো ও কি বলবে আমি বলি বাকি পর্ব আর তোমরা শুনো। ও কোনদিন মুক্তিযোদ্ধা বা নেতা ছিলনা। আমার জানা মতো ওরা চামচা বা লাঠিয়ালের ভূমিকায় অভিনয় করতো, তাই ওদেরকে চামচা বা লাঠিয়াল বলতে পারো। এবার ওরা জানতে চাইলো কিভাবে। তিনি যে বললেন তিনি ছাত্রলীগের সূত্র ধরে যুবলীগ করে এখন তিনি আওয়ামী লীগের একজন বিরাট নেতা। এবার কাজল বললো, তোমরা জানো ওর দেশের বাড়ি কোথায়? সে সেখানে কোনদিন নেতা তো দুরের কথা, কোন দল বা প্রতিষ্ঠানের প্রাথমিক সদস্যও ছিল না। সে ছিলো যখনই যে সরকারী দল এসেছে তাদের লাঠিয়াল। বিদেশে এসে সে এখন হয়ে গেছে বিরাট বড়মাপের নেতা, তাও আবার তোমদের মত অপরিচিতদের কাছে। তার সম-সাময়িক তার এলাকার কাছে সে এটা বলতে পারবে না। কেননা তার চরিত্র আর বাস্তবতা আমরা নিজে জানি। আর ওদের মত অপরাজনীতিবিদ আছে বলেই আজ রাজনীতি বলো আর সমাজনীতি বলো তার বারটা বাজােেচ্ছ। এবার ওর সাথের কথোপোকথনের কিছু কাজল নীচে তুলে ধরলো । ঐ লোকটি বললো তুমি কিভাবে আমার সম্পর্কে এত কিছু জানো। কাজলের সোজা উত্তর ’ আমি জানি বলেই তো এই সুদুর প্রবাসে সাহসিকতার সাথে বলতে পারছি, তোমার মতো আমাকে দেখামাত্র আমতা  আমতা ভাব করছি না। এবার সে বললো তুমি জানো না আমি বাংলাদেশের সূচনাতে যারা  আমাদের এলাকায় মন্ত্রী-প্রতিমন্ত্রী বা উপমন্ত্রী হয়েছেন তারা আমাকে তাদের গ্র“পে নেওয়ার জন্য কতইনা তদবীর করেছেন, তার ইতিহাস কি তুমি রাখো। কাজল বললো সে ইতিহাস  আমার জানার দরকার নেই, আচ্ছা তুমি তোমার বুকে হাত রেখে বলো, তুমি কি কোনদিন তোমার এলাকায় কোনো রাজনৈতিক দল হোক আর সামাজিক সংগঠন হোক তার প্রাথমিক সদস্য ছিলে। কাজলের মতে তার কাছে যা তথ্যউপাত্ত আছে তুমি একজন  মুখবাজ লাঠিয়াল ছিলে আর লন্ডনে এসে তুমি অজানা অপরিচিতদের কাছে সেজে গেছো বড়মাপের নেতা। এবার সে রেস্টুরেন্টের দেয়ালে বাংলায় একটি লেখা দেখিয়ে তাড়াতাড়ি ফেটে পড়লো। সবার দৃষ্টি পড়লো দেওয়ালের লেখাটির উপর- ’এখানে  রাজনৈতিক কথাবার্তা নিষিদ্ধ।’

লন্ডন, ২৮ জুন ২০১৭  : লেখক- রাজনীতিবিদ, সাংবাদিক ও সাবেক কাউন্সিলার  

Share
প্রধান সম্পাদক ও প্রতিষ্ঠাতা ॥ শাহাব উদ্দিন আহমেদ বেলাল
প্রধান সম্পাদক কর্তৃক লন্ডন থেকে প্রকাশিত।
ফোন ॥ (+৪৪)৭৯৪৪৩০৫৪৮৮
ই-মেইল ॥ probashebangladesh@hotmail.com
Copyright © BY Probashe Bangladesh
Design & Developed BY Popular-IT.Com