,
Menu |||

ভারি বর্ষণ ও পাহাড়ি ঢলে বড়লেখায় প্লাবিত ৫০ গ্রাম : পানিবন্দী ২৫ হাজার মানুষ

মঙ্গলবার, ২০ জুন, ২০১৭ :
লিটন শরীফ, বড়লেখা (মৌলভীবাজার) প্রতিনিধি :  গত কয়েকদিনের ভারি বর্ষণ ও পাহাড়ি ঢলে মৌলভীবাজার জেলার বড়লেখা উপজেলার হাকালুকি হাওরপাড় এলাকার সুজানগর, তালিমপুর, বর্ণি ও দাসেরবাজার ইউনিয়নের অন্তত ৫০টি গ্রাম প্লাবিত হয়েছে। এতে এসব ইউনিয়নের প্রায় ২৫ হাজার মানুষ পানিবন্দী হয়েছেন। স্থানীয় বিভিন্ন স্কুলে নিরাপদে আশ্রয় নিয়েছেন অনেকেই। এছাড়া এসব ইউনিয়নের অধিকাংশ গ্রামীণ সড়ক এখনও পানির নিচে রয়েছে। যান চলাচল বন্ধ থাকায় তাদের যাতায়াতের একমাত্র ভরসা হচ্ছে নৌকা
জনপ্রতিনিধি, প্রশাসন, ও স্থানীয় লোকজন সূত্রে জানা গেছে, বিগত কয়েক দিনের ভারি বর্ষণ ও পাহাড়ি ঢলে হাকালুকি হাওরে পানি বৃদ্ধি পাওয়ায় হাওর সংলগ্ন এলাকায় বন্যার সৃষ্টি হয়েছে। এতে হাওর সংলগ্ন বর্ণি, তালিমপুর, সুজানগর ও দাসেরবাজার ইউনিয়নসহ আশপাশের এলাকার অন্তত ৫০টি গ্রামের প্রায় ২৫ হাজার মানুষ এখন পানিবন্দী হয়ে পড়েছেন। গ্রামগুলোর অনেক বাড়ি পানিতে নিমজ্জিত রয়েছে। ঘরে পানি ঢুকায় ৩০টি পরিবার স্থানীয় স্কুলগুলোতে আশ্রয় নিয়েছেন। এছাড়া বহু পরিবার উঁচু এলাকায় আত্মীয়-স্বজনের বাড়িতে আশ্রয় নেন।
সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হলো-সুজানগর ইউনিয়নের দশঘরি, রাঙ্গিনগর, বাড্ডা, ঝগড়ি, পাটনা, ভোলারকান্দি, উত্তর বাঘমারা, তালিমপুর ইউনিয়নের হাল্লা, ইসলামপুর, কুটাউরা, বাড্ডা, নুনুয়া, পাবিজুরি, শ্রীরামপুর, মুর্শিবাদকুরা, পশ্চিম গগড়া, পূর্ব গগড়া, বড়ময়দান, গাগড়াকান্দি, তেলিমেলি, গোপালপুর, হাউদপুর, বর্ণি ইউনিয়নের পাকশাইল, সৎপুর, কাজিরবন্দ, নোওয়াগাঁও, উজিরপুর, দাসেরবাজার ইউনিয়নের চানপুর, অহিরকুঞ্জি, উত্তরবাগীরপাড়, দক্ষিণবাগীরপাড়, পানিশাইল, ধর্মদেহী, চুলারকুড়ি, কোদালী, ধলিরপাড়, নেরাকান্দি, মাইজমজুড়ি, মালিশ্রী।
মঙ্গলবার (২০ জুন) সরেজমিনে এসব এলাকা ঘুরে দেখা যায়, অনেক গ্রামীণ সড়ক পানির নিচে। গ্রামগুলোর অধিকাংশ বাড়ি পানিতে নিমজ্জিত। সার্বিক বন্যা পরিস্থিতির তেমন কোনো হেরফের হয়নি। এদিকে আবার বৃষ্টি হলে আবারো পানি বাড়াসহ বন্যা পরিস্থিতির অবনতির আশঙ্কা করছেন এলাকাবাসীর।
এছাড়া ঘরে পানি ঢুকে পড়ায় সুজানগর ইউনিয়নের ভোলারকান্দি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, আজিমগঞ্জ সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, তালিমপুর ইউনিয়নের হাকালুকি উচ্চ বিদ্যালয় ও দ্বিতীয়ারদেহী সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়সহ বিভিন্ন বিদ্যালয়ে প্রায় ৩০টি পরিবারকে আশ্রয় নিতে দেখা গেছে।
তালিমপুর ইউনিয়নের হাকালুকি উচ্চ বিদ্যালয়ে আশ্রয় নেয়া বড়ময়দান গ্রামের ময়তুন বেগম, কামাল হোসেন, কাইয়ুম আহমদ, মুর্শিবাদকুরা গ্রামের জাকির হোসেন, আলতাফ হোসেন, বাবুল উদ্দিন বলেন, ‘অকাল বন্যায় আগে ধান-মাছ মরেছে। এখন আবার পানি বাড়ায় আমরা অনেক কষ্টের মাঝে আছি। ঘরে খানি (খাবার) নাই। ঘরের ভিতরে কমর (কোমর) পানি। গরু-ছাগল লইয়া ই-স্কুলে (বিদ্যালয়ে) আশ্রয় নিছি। পানি না নামলে (কমলে) এবার আর ঈদ বাড়িত অইত নায়।’
বড়ময়দান গ্রামের বাসিন্দা জিতেন্দ্র বিশ্বাস বলেন, ‘বন্যার পানিতে ঘর অর্ধেক ডুবি গেছে। বউ-বাচ্চারে শ্বশুর বাড়ি পাঠাই (পাঠিয়েছি) দিছি। নিজে কোনমতে অন্যের বাড়িত আশ্রয় নিছি।’
এ ব্যাপারে বড়লেখা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) এসএম আব্দুল্লাহ আল মামুন মঙ্গলবার (২০ জুন) বলেন, ‘গত কয়েকদিনের অব্যাহত বৃষ্টিতে হাওরের পানি বাড়ছে। ফলে নি¤œাঞ্চল প্লাবিত হয়ে মানুষের বাড়ি-ঘরে পানি ঢুকে পড়ে। এখন পর্যন্ত ৩০টি পরিবার নিরাপদে বিভিন্ন স্কুলে আশ্রয় নিয়েছে। প্রশাসনের পক্ষ থেকে শুকনো খাবার, স্যালাইন, নগদ ৫০০ টাকা ও বিনামূল্যের ১০ কেজি করে চাল বিতরণের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।’

Share
প্রধান সম্পাদক ও প্রতিষ্ঠাতা ॥ শাহাব উদ্দিন আহমেদ বেলাল
প্রধান সম্পাদক কর্তৃক লন্ডন থেকে প্রকাশিত।
ফোন ॥ (+৪৪)৭৯৪৪৩০৫৪৮৮
ই-মেইল ॥ probashebangladesh@hotmail.com
Copyright © BY Probashe Bangladesh
Design & Developed BY Popular-IT.Com